হার্টবিট কাউন্টারের মাধ্যমে হৃদপিন্ড কতবার পালস দিচ্ছে জানতে পারি। অনেক গুরুতর রোগ যেমন বুক ধড়ফড় করা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে শুরু করে অনেক মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় ও বের করা সম্ভব। কারণ সুস্থ ও নীরোগ দেহের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুস্থ হার্ট। আজকে আরডুইনো দিয়ে তেমনি একটি ডিজিটাল হার্টবিট মনিটর তৈরি করা শিখবো।
হৃদপিন্ড আমাদের শরীর থেকে শিরার সাহায্যে রক্ত সংগ্রহ করে তাকে পরিশুদ্ধ করে আবার তা ধমনীর মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে দেয়। যখন হৃদপিন্ড রক্ত শোষন করে তখন শরীরে রক্তের প্রবাহ কমে যায় এবং যখন রক্ত পাম্প করে তখন শরীরে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। এ জন্যই বুকে স্টেথোস্কোপ ধরলে ঢিপঢিপ শব্দ শোনা যায়। অথবা হাতের ধমনীতে কিংবা ঘাড়ের শীরায় আঙ্গুল ধরলে কিছুক্ষণ পরপর একটু চাপ অনুভব হয়। একেই হার্টবিট বা পালস বলে।
2:বিপি/বিপিএম (BP/BPM) কি?
BPM = Bits Per Minute, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে কত সংখ্যক বিট/পালস দিচ্ছে তার পরিমাণ। এই Bits Per Minute এর প্রতি শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে সংক্ষেপে বলা হয় BPM বা আরো সংক্ষেপে BP.
3: পালস রেট এর স্বাভাবিক মাত্রা কত?
স্বাভাবিক অবস্থায় হার্টের পালস রেট নিম্নরূপ-
গর্ভজাত শিশু/ভ্রুণের স্বাভাবিক পালস ১৪০-১৫০
নবজাতক শিশুর স্বাভাবিক পালস ১৩০ – ১৪০
শিশুর স্বাভাবিক পালস ৮০ – ১২০
প্রাপ্ত-বয়ষ্ক স্বাভাবিক লোকের পালস ৬০-৯০
বৃদ্ধ লোকের স্বাভাবিক পালস ৭৫-৪০
নিচের টেবিলে চিত্রে আমরা বিভিন্ন বয়স ও স্বাস্থ্যের অধিকারীদের আনুমানিক পালস রেট চিত্র দেখতে পাচ্ছি-
4:পালস/হার্টবিট সেন্সর পরিচিতি
যে যন্ত্র দ্বারা পালস সেন্স করা যায় তাকেই পালস সেন্সর বলে। ইসিজি যন্ত্রে এই কাজটিই করা হয়। বিশ্বব্যাপি সিনেমায় পালস প্রদর্শন একটা প্রতিনিয়ত ঘটনা। সিনেমায় কেউ হসপিটালে থাকলে মনিটর যে গ্রাফটা দেখা যায় এইটাই পালস গ্রাফ (Pulse Graph)।
5:পালস সেন্সর তৈরীর তত্ত্ব
হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারণের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। হৃদপিন্ডের এই অনবরত সংকোচন ও সম্প্রসারনের কাজ চালাবার জন্য তার নিজস্ব অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বাইরে থেকে সাধারন মাল্টিমিটার বা ভোল্ট মিটার দ্বারা এই বিদ্যুৎ নির্নয় করা যায় না। কারণ এটি অনেক স্বল্প মাত্রার। কিন্তু এর দ্বারাই হৃদপিন্ড তালে তালে অনবরত সংকোচন ও সম্প্রসারন করে। যারফলে আমরা হার্টবিট পালস পাই।
এই বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রের নাম SINOATRIAL NODE (SA)। এটা হৃদপিন্ডের ডান পার্শের উপরি প্রকোষ্ঠের উপর অংশে অবস্থিত। এটাকে পেস মেকার (PACE MAKER) ও বলে। এই বিদ্যুৎ প্রতিবার পাম্পের সময় সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিদ্যুৎ বিশ্লেষণ করেই ELECTRO CARDIOGRAPH,(ECG) মেশিনে পালস গণনা করা হয়।
কিন্তু আমরা এই পদ্ধতিতে তৈরী করবোনা। এই বিদ্যুৎ/ভোল্টেজ খুবই কম মানের হয় যা ফিল্টার করতে হলে খুব ভালো মানের ব্যান্ড পাস ফিল্টার প্রয়োজন। যা হবিস্টদের জন্য অত্যন্ত ঝামেলা জনক ও দুরূহ চ্যালেঞ্জ।
আমরা আলোর প্রতিফলন পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তৈরী এই ডিজিটাল হার্টবিট মনিটর টি তৈরি করবো।
যখন হৃদপিন্ড দ্বারা পাম্প কৃত রক্ত শরীরের বিভিন্ন নালীতে প্রবাহের পরিমাণ বেশি হবে তখন এর ভিতর দিয়ে অতিবাহিত আলোর প্রতিফলন ও বেশি হবে। এই তত্ত্ব ব্যবহার করে আমরা একটা সেন্সর ডিজাইন করবো।
6: মূল সেন্সর তৈরী
হার্টবিট মনিটর ডিভাইসের জন্য ব্যবহৃত TCRT5000 সেন্সর
সেন্সর তৈরী করতে আমি TCRT1000 ব্যবহার করেছি। এইটা আসলে IR tx rx pair ছাড়া আর কিছুই না আপনারা TCRT5000 অথবা যে কোনো ইনফ্রা রেড ট্রান্সমিটার/রিসিভার (IR TXRX) এলইডি ব্যবহার করে কাজ করতে পারবেন।
হার্টবিট মনিটর ডিভাইসের জন্য ব্যবহৃত TCRT1000 সেন্সর
এই সেন্সর ভোল্টেজ ডিভাইডার রুল অনুযায়ী কাজ করে। তাই এর সাথে আমাদের একটা ১০ কিলো ওহম রোধ সিরিজে লাগাতে হবে। আর TX এলইডি জ্বালানোর জন্য একটা ১৫০-৩০০ ওহম মানের রোধ লাগাতে হবে নাহলে ৫ভোল্ট এই এলইডি টি ফিউজ হয়ে যাবে।
সেন্সরে উপযুক্ত পাওয়ার দেবার ডায়াগ্রাম
এই সেন্সর ভোল্টেজ ডিভাইডার রুল অনুযায়ী কাজ করে। তাই এর সাথে আমাদের একটা ১০ কিলো ওহম রোধ সিরিজে লাগাতে হবে। আর TX এলইডি জ্বালানোর জন্য একটা ১৫০-৩০০ ওহম মানের রোধ লাগাতে হবে নাহলে ৫ ভোল্ট এ এই এলইডি টি ফিউজ হয়ে যাবে।
ব্যান্ডপাস ফিল্টার ডিজাইন
এরপর সেন্সর থেকে প্রাপ্ত ভোল্টেজকে অবশ্যই একটা ব্যান্ডপাস ফিল্টার দিয়ে ফিল্টার করতে হবে। কারণ ভোল্টেজের পরিবর্তন খুবই সূক্ষ্ম হয়। একই সাথে এই ব্যান্ডপাস ফিল্টার দ্বারা অপ্রয়োজনীয় সিগনাল সমূহকেও বাদ দেয়া যায়।
ডিজিটাল হার্টবিট মনিটর ডিভাইসের জন্য ডিজাইনকৃত ব্যান্ডপাস ফিল্টারের স্কিমেটিক ডায়াগ্রাম
উপরে দেখানো হলো ফিল্টার সার্কিট এর স্কিমেটিক ডায়াগ্রাম। আমি একই ব্যান্ডপাস ফিল্টার কে দুইবার ব্যবহার করেছি নিখুঁত ফিল্টারিং এর জন্য। আউটপুটে একটা এলইডি ব্যবহার করা হয়েছে পালস ইন্ডিকেটর হিসেবে।
এখানে উল্লেখ্য যে আরডুইনোতে ডিজিটাল ইনপুট নিয়ে কাজ করলে অবশ্যই সেন্সরের আউটপুট আর গ্রাউন্ডের সাথে একটা ১০ কিলো ওহম বা বড় মানের একটা রোধ লাগাতে হবে। কারণ কম্পারেটর কখনোই ০ ভোল্ট আউটপুট দেয়না। কিছু ছোট মানের ভোল্টেজ সবসময় থাকে। যার জন্য digitalRead নিলে HIGH দেখাবে। প্রোটিয়াস ডিজাইন টি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।
পিসিবি ডিজাইন
প্রজেক্টের পিসিবি ডিজাইন (কপার সাইড)পিসিবি এর কম্পোনেন্ট সাইড বা টপ সিল্ক
উপরে ছবিতে আমরা পিসিবি ডিজাইন দেখতে পাচ্ছি। পিসিবি ডিজাইন করতে আমি প্রোটিয়াস সফটওয়্যার ব্যবহার করেছি। এবং টোনার ট্রান্সফার পদ্ধতিতে পিসিবি প্রিন্ট করেছি। পিসিবি তৈরি করবার ও প্রিন্ট করার সহজ পদ্ধতি জানতে এখানে ক্লিক করুন – টোনার ট্রান্সফার পদ্ধতিতে পিসিবি তৈরি
এখন আমরা আরডুইনো ব্যবহার করে ডিজিটাল ডিসপ্লে দিয়ে পালস মনিটর বানাব। আরডুইনো দিয়ে প্রোগ্রাম করা যায় এমন যেকোন ডিসপ্লে ব্যবহার করতে পারবেন।
আমি Nokia 5110 সেটের ডিসপ্লে ব্যবহার করেছি। কারণ এই ডিসপ্লেটা ওপেন-সোর্স এবং এই ডিসপ্লের আরডুইনো লাইব্রেরী আছে। স্পার্কফান এই ডিসপ্লে মডিউল আকারে বিক্রি করে ও সহজলভ্য।
ডিসপ্লে প্রোগ্রাম করতে হলে আগে অবশ্যই ডিসপ্লে লাইব্রেরী সম্পর্কে জানা জরুরী ।
ডিসপ্লে লাইব্রেরী ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন – https://drive.google.com/file/d/0Bw49d4iXnF-qYlFFV1Zzb1ZHTHc/view?usp=sharing
হয়ে গেল আমাদের প্রোগ্রামিং করা। এখন কোড আপলোড করে ডিসপ্লে সংযোগ দিলেই আমাদের পালস মনিটর হয়ে যাবে। চলুন তাহলে এখন দেখে আসি কেমন হবে এই পালস মনিটর।
ভিডিও লিঙ্ক
নিচে আমার তৈরি করা ডিজিটাল হার্টবিট মনিটর এর বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি দেখানো হলো-
পরিশিষ্ট
ভিডিও টিউটোরিয়াল ও বিস্তারিত তথ্যদিয়ে লেখাটিকে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যথাস্থানে উপযুক্ত ছবি, কোড দেবার চেষ্টা করেছি। তাই আমার মনেহয় এই ডিজিটাল হার্টবিট পালস মনিটর যন্ত্রটি তৈরি করতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়। তবু কোন সমস্যা হলে নিচে কমেন্ট বক্স তো রইলোই। অবশ্যই জানাবেন আর তৈরি করবেন আরডুইনো দিয়ে এই ডিজিটাল হার্টবিট পালস মেশিন। প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি, এই মেশিনটি হার্টবিট কমানো কিংবা বুক ধরফর করা কমানোর সহজ উপায় ও কিন্তু হতে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ছে মানুষ। বর্তমান প্রজন্ম মেতে আছে তাদের স্মার্টফোন আর ভিডিও গেমে। তবে এ গেমপ্রযুক্তিও আধুনিক হয়েছে। সাধারণ ভিডিও গেমের বদলে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে অনলাইন গেম। অবাক করার মতো বিষয় হলেও এটাই সত্যি, গেম খেলতে খেলতে একসময় আত্মহত্যা করতেও হৃদয় কাঁপছে না তাদের। এমনই একটি গেমের নাম ব্লু হোয়েল। খেলার নির্দেশনা অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীকে ৫০টি ‘টাস্ক' শেষ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিজেকে আঘাত করাসহ নানা রকম ভয়ানক ‘টাস্ক'। শেষ টাস্কটি আত্মহত্যা। এখন পর্যন্ত ১৩১ জন এর শিকার ব্লু হোয়েল’র নির্মাতা ফিলিপ Philipp Budeikin, 21, from Russia, is being held on charges of inciting at least 16 schoolgirls to kill themselves by taking part in a game he invented called ‘Blue Whale’. কী এমন মরণনেশার খেলা ‘ব্লু হোয়েল’? কোথায় এর উৎপত্তি? এই প্রাণঘাতী গেম খেলে এ পর্যন্ত কত কিশোর-কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে? আগেই বলেছি, অনলাইন সুইসাইড গেম ‘ব্লু হোয়েল’। এই গেমের ৫০টি ধাপ। সর্বশেষ পরিণতি আত্মহত্যা। লেভেল ও টাস্কগুলো ভয়ংকর। গেম যত এগোবে, ...
Hey this nimai come with python scratch block to direct python code just read my article and give up your complexity with python coding One aspect of using a text-based language that many learners struggle with is understanding the specific syntax (the rules of the language) required. Mistakes made in a program are often due to these rules not being followed and are called syntax errors. It is therefore helpful to show the parallels and differences between a language that a learner has already mastered and the one they are trying to learn. Shown below are a few Scratch blocks and their equivalent code in Python. The list is far from exhaustive and is intended as a reference guide rather than an exercise to be worked through. Variable assignment In Scratch, a variable needs to be created before it can be assigned a value, whereas in Python a variable is created upon assignment with a value. In Python, it is necessary to surround strings (any text) with either single ( '...
Comments
Post a Comment